কোভিড মহামারী এখনও বাড়ছে, বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটির অনেক ধরন পাওয়া গেছে, ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের জন্য জনস্বাস্থ্য রক্ষার সব প্রচেষ্টাও দিন দিন জটিল হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু বর্তমানে পুরো বাংলাদেশজুড়ে কোভিড সংক্রমণের হার আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে, তাই প্রত্যেকের যার যার জায়গা থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরা, প্রয়োজনে এবং নিরাপদ উপায়ে কোভিড-১৯ টেস্ট করা এবং সর্বাত্মক সতর্ক হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর কোন কোন ভ্যারিয়ান্ট দেখা দিয়েছে?

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রকোপ চালানো এই ভাইরাসের একাধিক ধরন সম্পর্কে জানা গেছে। সিডিসির গ্লোবাল ভেরিয়েন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একাধিক ধরন ভ্যারিয়ান্ট পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ গবেষক এবং সরকারী চিকিৎসা কর্মকর্তারা বলছেন – করোনোভাইরাস ভ্যারিয়ান্ট আরও সংক্রমণযোগ্য – এটি সাধারণ ভাইরাসের তুলনায় ৫০% থেকে ৭০% বেশি সংক্রামক। 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন ধরনের এই ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্তকরণ কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া, এফডিএ আরও বলে যে, ভাইরাস জিনোমের জিনগত পরিবর্তনের দ্বারা একাধিক অঞ্চলে সনাক্তকৃত কোন জিনোমের উপর নির্ভর করে এমন টেস্টগুলোর ব্যবহার কেবলমাত্র এক অঞ্চলে সনাক্তকৃত ভাইরাস জিনোমের উপর নির্ভরশীল টেস্টগুলোর চেয়ে কম প্রভাবিত হতে পারে, অর্থাৎ যে ভাইরাস জিনোম অপেক্ষাকৃত কম অঞ্চলে পাওয়া যায়, সেই ভাইরাস জিনোম দ্বারা টেস্টগুলো কম প্রভাবিত হয়। প্রাভাতে করা আমাদের টেস্টে অনেকগুলো নির্দিষ্ট অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং করোনাভাইরাসের ধরনগুলো শনাক্ত করতে এই টেস্ট যথেষ্ট কার্যকরী। তাছাড়াও, নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্ট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আমাদের টেস্টের নির্ভুলতা ধরে রাখতে আমরা অনবরত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এই ভাইরাসের র‍্যান্ডম জিনোম সিকোয়েন্স এনালাইসিস করছি যা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, যেসকল স্যাম্পল পজিটিভ আসছে, তাতে নিশ্চিতভাবেই কোভিড-১৯ এর নির্দিষ্ট একটি ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে।

সবার জন্য নির্ভুল টেস্টিং নিশ্চিত করা

প্রাভাতে আমরা আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি সার্ভিস নিয়ে গর্বিত, যে ল্যাব সার্ভিসের উপর আপনি নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারেন। এবং আমরা আমাদের কোভিড-১৯ টেস্টে সর্বোচ্চ নির্ভুলতার মান নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছি। কোভিড-১৯ মলিকিউলার টেস্টের জন্য আমরা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এবং সিডিসি দ্বারা বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ও বাধ্যতামূলক সমস্ত গাইডলাইন এবং প্রোটোকল অনুসরণ করছি।

ফলস-নেগেটিভ ও ফলস-পজিটিভ রিপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত

সব ধরনের টেস্টের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করি, তবে ডায়াগনস্টিক টেস্টের প্রযুক্তি নিখুঁত নয় এবং এমনকি পৃথিবীর সেরা ল্যাবরেটরিতে করা কোন টেস্টও ১০০% সঠিক নিশ্চিত করা সম্ভব না। যেকোনো ডায়াগনস্টিক টেস্টের মতো এই টেস্টেও এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, কেউ ভাইরাস আক্রান্ত হলেও তার টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ (ভুল নেগেটিভ) আসতে পারে, অথবা ভাইরাস আক্রান্ত না হওয়ার পরেও টেস্ট রেজাল্ট পজিটিভ (ভুল পজিটিভ) আসতে পারে। 

কোভিড-১৯ টেস্টগুলোর যথার্থতা সম্পর্কিত বিশ্বব্যাপী তথ্যের পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ভুল নেগেটিভ রেজাল্টের হার ২% থেকে ২৯% এর মধ্যে রয়েছে। এছাড়া, পিসিআর টেস্টিংয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণা (কোভিড-১৯ সনাক্তকরণের জন্য একই ধরণের পরীক্ষা) প্রায় ২% এর মতো গড় ভুল পজিটিভ হার নির্দেশ করে। একজন ব্যক্তির টেস্টের রেজাল্ট ভুল নেগেটিভ বা ভুল পজিটিভ হবে কিনা তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে – যেমন সংক্রমণ এবং টেস্ট করার মধ্যের সময়ের উপর। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ভাইরাস সংক্রমণের পর খুব দ্রুত টেস্ট করান, তাহলে আপনার শরীরে টেস্ট করার মতো পর্যাপ্ত জ্বর বা লক্ষণ না ও থাকতে পারে, যার ফলে একদিন নেগেটিভ রেজাল্ট এবং পরবর্তীতে পজিটিভ রেজাল্ট হতে পারে। 

কোন সম্পূর্ণ সমাধান না থাকলেও, সিডিসি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, এবং গ্লোবাল হেলথ কমিউনিটি দৃঢ়তার সাথে ডায়াগনস্টিক টেস্টের পরামর্শ দেয়, কারণ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে এটি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আপনার ভাইরাস সম্পর্কিত লক্ষণগুলো দূর করতে বা ভাইরাসটিকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া প্রতিরোধ করতে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হল, প্রথমেই একটি ভিডিও কন্সালটেশনের মাধ্যমে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এবং যদি ডাক্তার পরামর্শ দেয় তাহলে এখনই টেস্ট করে ফেলুন।

মনে রাখবেন, প্রাভাতে আপনি শুধুমাত্র একজন রোগী নন, আপনি প্রাভা পরিবারের একজন সদস্য।

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment